সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন | আর্টিকেল টপ

আমাদের নিউজ পোর্টালে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন →

হাসিনা দেশেই আছে। সেটা কি আপনারা জানেন?

Super Admin
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:১৮ এএম
৪২৫ Shares
হাসিনা দেশেই আছে। সেটা কি আপনারা জানেন?

হাসিনা দেশেই আছে। সেটা কি আপনারা জানেন?  


গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (BG-338) শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। সে সময় বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ট্রলি-সংকট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হন এবং কর্তব্যরতদের সঙ্গে তাঁর উগ্র আচরণের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


বিমানবন্দরে যে মানুষকে হয়রানি করে জিনিসপত্র-সম্পদ সব লুটপাট করা হয়, এটা কি মিথ্যা কথা?


কত মানুষ কত কী হারিয়ে, জাস্ট কাঁদতে কাঁদতে অসহায়ের মতো বের হয়ে যান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের হয়রানির সীমা নেই। শুধু তাঁরাই নন, বলতে পারেন—সবাই এর ভুক্তভোগী। কেউ প্রতিবাদ করেন, বেশিরভাগই করার সাহস পান না।


তো হয়েছে কী? বীর বিক্রম মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং উনি কড়াভাবে প্রতিবাদ জানান। এইটুকুই। খালি প্রতিবাদ।


কিন্তু এই প্রতিবাদের ফলে ওপরে ওপরে তারেকের পা-চাটা, অর্থাৎ হাসিনার গুন্ডা বাহিনীর সদস্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব ঘটনার পর ২ অক্টোবর সকালে বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় (১৮৬, ১৮৯, ৩২৩, ৩৫৩, ৫০৪, ৫০৬ ইত্যাদি) মামলাটি দায়ের করেন।


মামলার মূল অভিযোগগুলো হলো—মানে, ওই বিএনপি বনাম হাসিনার ক্যাডার যে অভিযোগগুলো এনেছে, সেগুলো হলো:


• কর্মকর্তাদের হুমকি ও গালাগাল: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক সেখানে গেলে আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে তেড়ে যান এবং প্রকাশ্যে, “তোমাকে পিটাবো, কলার ধরে ঘাড় ধরে বের করে দেবো”—বলে হুমকি ও অশালীন গালাগাল করেন। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।


• নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা: আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই (KPI) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। কর্তব্যরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার (ওয়ারেন্ট অফিসার) মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও করতে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।


• মালামাল ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা: তিনি ট্রলি থেকে সাধারণ যাত্রীদের আনা পবিত্র জমজমের পানির বোতল ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন করেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রতিনিধির সঙ্গে চরম মারমুখী আচরণ করেন।


ওপরে এতক্ষণ যে বক্তব্য পড়লেন, সেগুলো মনের মাধুরী মিশিয়ে ওই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব লিখেছে।


ভালো যে লেখেনি, তার জামা-প্যান্ট সবকিছুই আখতারুজ্জামান খুলে নিয়েছেন!


এই হলো তারেকের দেশ চালানোর নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।


অথচ রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের ঐতিহ্যবাহী ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ নামের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিএনপির গুন্ডা বাহিনী ভারী বুলডোজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।


তদন্তকারী সংস্থা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যানুযায়ী, এই হামলার পেছনে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সরাসরি জড়িত ছিলেন।


তারেকের হাত আর চোখ কে বেঁধে রেখেছে এই ঘটনায়?


কাউকে তারেক গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে বলে শুনেছেন?


সালমানের কোটি টাকার স্টুডিও ভেঙে দিয়েছে। উল্টো সালমানকে দেখে নিচ্ছে পুরো বিএনপির দলবল মিলে।


অথচ বিমানবন্দরের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছেন কড়া ভাষায় বলে তাঁকে হাতে রশি দিয়ে বেঁধে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়। তাঁকে প্রতিবাদ করার অপরাধে এক দিনের রিমান্ডেও নিয়েছে তারেক।


বাহ্, তারেক বাহ্! আপনার “I have a plan” কত সুন্দর!


২৪-এর জুলাইয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছিল কেন? হাসিনার নির্যাতন থেকে বাঁচতে? সে যেমন মানুষকে বিনা অপরাধে ধরে নিয়ে রিমান্ডে নিত, গুম করত, মেরে ফেলত—সেই সব লোমহর্ষক ঘটনা থেকে বাঁচতে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছিলেন?


কিন্তু হাসিনাকে কি সরাতে পেরেছেন? না।


হাসিনার সব রকম কর্মকাণ্ডে তারেক আত্মহারা হয়ে গেছে। তাঁকে কেউ হয়তো মানে না। অথবা তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, হাসিনার হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখবেন।


কিন্তু সবকিছুর শেষ আছে। নিজের লন্ডনে ১৭ বছর নির্বাসিত হওয়ার ইতিহাস ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না। যাদের রক্তের স্রোতে ভেসে এসে অন‍্যের মালা ছিনিয়ে নিয়ে পরে গদিতে বসলেন, অন্তত তারেক হয়ে মানুষকে একটু ভালো কিছু উপহার দেন।


হাসিনাকে বারবার তাড়াতে সজাগ আছে জনগণ।